চট্টগ্রাম   রবিবার, ১৬ মে ২০২১  

শিরোনাম

আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন চান চট্টগ্রামের আইনজীবীরা

আমাদের ডেস্ক :    |    ০১:৪০ পিএম, ২০২১-০২-২৪

আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন চান চট্টগ্রামের আইনজীবীরা

 

ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর পরও এখনো দেশে একটি বাংলা ভাষাবান্ধব বিচার ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। আদালতে বাংলা ভাষা প্রচলনে এখনও সকল প্রতবিন্ধকতা দূর হয়নি। অথচ ১৯৮৭ সালের ৮ র্মাচ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন পাস হয়েছে। এরপরও আদালতে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হয়নি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ চট্টগ্রামের আইনজীবীরা। তারা অবিলম্বে আদালতে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর দাবি জানিয়েছেন। অবশ্য ‘অচিরেই সব রায় বাংলায়’ প্রধান বিচারপতির এই ঘোষণায় আশান্বিত তারা।

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছিলেন, ‘অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের রায় বাংলায় দেওয়া হবে। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি অনুবাদ সেল গঠন করেছি। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। গত ডিসেম্বরে আমরা একটি সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু করেছি। যার ফলে সুপ্রিম কোর্টের সব রায় ইংরেজি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলায় রূপান্তরিত হচ্ছে। রূপান্তর কাজ শেষ হলে আমরা আরও গুছিয়ে নেব।’

চট্টগ্রাম আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী এ এম জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘মহান ভাষা দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় রায় প্রদান করেন বিচারপতি এবাদুল হক। এরপর বিচারপতি আব্দুস সালাম ও বিচারপতি খায়রুল হক বাংলা ভাষায় রায় দিয়ে উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার মর্যাদাকে সুউচ্চে তুলে ধরেন। উচ্চ আদালতে সর্বাধিক বাংলা ভাষায় রায় দিয়ে অমর হয়ে আছেন চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান বিচারপতি আব্দুস সালাম মামুন। অন্য বিচারপতিরাও এই ধারাকে শাণিত করতে অবদান রাখতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘বিচারপতিরা যদি এই কষ্ট স্বীকার করে তাদের রায় বাংলায় লেখা শুরু করেন এবং পাশাপাশি আইনজীবীদের বাংলায় দরখাস্ত ও জবাব লিখতে উৎসাহিত করা শুরু করেন, তবে উচ্চ আদালতসহ সব ধরনের বিচার ব্যবস্থায় বাংলা ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বিপ্লব আসবে। বিচার প্রার্থীরা তাদের নিজ ভাষায় বিচার পাওয়ার অধিকার পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘মাতৃভাষার সম্মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা। উচ্চ আদালতে বাংলা চালুর ক্ষেত্রে আমাদের অনিচ্ছাই প্রধান বাধা। আইন শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বাংলা ভাষার ব্যবহার জোরদার করা জরুরি। বিচারক, আইনজীবী ও ভাষাবিদদের সমন্বয়ে এ ব্যাপারে একটি শক্তিশালী কমিটি করে আইন আদালতে বাংলা ভাষা চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের আইন আদালতে বাংলা ভাষা প্রচলনে কোনো আইনগত বাধা না থাকা সত্ত্বেও এই কাজে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি কেন? জার্মান, জাপান, ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, চীন, রাশিয়া, সুইডেন ও ইতালিসহ বিশ্বের অনেক দেশে তাদের মাতৃভাষায় বিদেশিদেরও কথা বলতে হয়। তাদের ভাষা শিখে সেখানে যেতে হয়, পড়তে হয়, থাকতে হয়। অথবা শেখার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেয়া হয়। কিন্তু আমরা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েও সেই মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারলাম না!’ ‘অচিরেই সব রায় বাংলায়’ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের এই ঘোষণায় তিনি আশাবাদী বলে জানান।

চট্টগ্রাম আদালতের আরেক আইনজীবী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ নামের এই রাষ্ট্রের জন্মের আগেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমরা ক্ষমতা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্বত্র বাংলা চালু করে দেব। সে বাংলা যদি ভুল হয়, তবে ভুলই চালু হবে। পরে সংশোধন করে নেব। বঙ্গবন্ধুর আমলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের যে সংবিধান রচিত হয়েছে, সেই সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। ওই বিধানকে কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন ১৯৮৭ (১৯৮৭ সালরে ২ নম্বর আইন)। যার ৩ নম্বর ধারায় বলা আছে, এই আইন প্রর্বতনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস, আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ওই আইনের ৩ এর (১) উপ-ধারায় উল্লেখিত কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় আবদেন বা আপিল করেন তাহলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তা হলে ওই কাজের জন্য তিনি সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওই আইনের ৪ নম্বর ধারায় এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণে সরকারকে গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বিধি প্রণয়নের ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজ পর্যন্ত আইন আদালতে তথা সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হয়নি । আমরা এখনও বাংলা ভাষাবান্ধব একটি বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। তবে প্রধান বিচারপতির ঘোষণায় আশাবাদী আমি। অচিরেই সব রায় বাংলায় হবে বলে তিনি যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা অল্প সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সেইসঙ্গে শুধু রায় নয়, অবিলম্বে আদালতের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর দাবি জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৩ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী আকন্দ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন বাস্তবায়নের জন্য একটি রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ওই বছরের ১৫ মের মধ্যে সরকারকে বাংলা ভাষা প্রচলনের নির্দেশ দেন। বাংলা ভাষা প্রচলনে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার পর বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেন গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

রিটেলেড নিউজ

বাবুল আক্তারের পরকীয়ার বাধা সরাতেই মিতুকে খুন 

বাবুল আক্তারের পরকীয়ার বাধা সরাতেই মিতুকে খুন 

নিজস্ব প্রতিবেদক :   মেয়ে মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মিতুর ...বিস্তারিত


স্ত্রীকে খুন করতে বন্ধুর মাধ্যমে খুনিদের  ৩ লাখ টাকা দেন বাবুল আক্তার

স্ত্রীকে খুন করতে বন্ধুর মাধ্যমে খুনিদের  ৩ লাখ টাকা দেন বাবুল আক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যায় বাবুল আক্তার তিন লাখ টাকা দিয়েছিলেন আসামিদের। আদালতে ...বিস্তারিত


মিতু হত্যাঃ বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা

মিতু হত্যাঃ বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার নতুন মামলায় এক নম্বর আসামি করে পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের মাম...বিস্তারিত


মিতু হত্যাঃ বাবুল আক্তার ৫ দিনের রিমান্ডে 

মিতু হত্যাঃ বাবুল আক্তার ৫ দিনের রিমান্ডে 

নিজস্ব প্রতিবেদক :     মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তাঁর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ ...বিস্তারিত


বন্দরের ৮ হাজার কর্মী পাচ্ছেন আর্থিক প্রণোদনা ও খাদ্য

বন্দরের ৮ হাজার কর্মী পাচ্ছেন আর্থিক প্রণোদনা ও খাদ্য

আমাদের ডেস্ক : :   চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ হাজার শ্রমিক কর্মচারীকে আর্থিক প্রণোদনা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।...বিস্তারিত


সিটি গেটে ঈদযাত্রী বোঝাই দুই শতাধিক গাড়ি আটক

সিটি গেটে ঈদযাত্রী বোঝাই দুই শতাধিক গাড়ি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক :   ঈদ সামনে রেখে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নানা কৌশলে রাতের আঁধারে, ভোরে নগর ছাড়ছে অন্য জেলার ...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

আসন্ন পটিয়া পৌর নির্বাচনে দল চাইলে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন তৌহিদুল আলম

আসন্ন পটিয়া পৌর নির্বাচনে দল চাইলে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন তৌহিদুল আলম

পটিয়া প্রতিনিধি : : বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পটিয়া ...বিস্তারিত


আনোয়ারায় দলীয় কোন্দলের জেরে ছাত্রলীগ কর্মি হত্যাকাণ্ডে ফাসানো হচ্ছে নিরীহ পথচারীকে

আনোয়ারায় দলীয় কোন্দলের জেরে ছাত্রলীগ কর্মি হত্যাকাণ্ডে ফাসানো হচ্ছে নিরীহ পথচারীকে

আনোয়ারা প্রতিনিধি : : আনোয়ারায় দলীয় কোন্দলের জেরে ছাত্রলীগ কর্মি হত্যাকাণ্ডে ফাসানো হচ্ছে নিরীহ পথচারী মহিউদ্দিন ...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর