চট্টগ্রাম   শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১  

শিরোনাম

প্রমোদতরি বে ওয়ানে ভাসছে সাগরে

আমাদের ডেস্ক :    |    ০৬:৫২ পিএম, ২০২০-১২-২৬

প্রমোদতরি বে ওয়ানে ভাসছে সাগরে

চৌধুরী মনি/ মোঃ আরফান উদ্দীন, অথিতি প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্সের বে ওয়ান প্রমোদতরি এক অনন্য মাইলফলক। পর্যটকদের নিরাপদ সমুদ্র ভ্রমণের লক্ষ্যেই প্রমোদতরি বঙ্গোপসাগরে ভাসানো হয়েছে কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্স কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম অঞ্চল হচ্ছে বাংলাদেশের পর্যটনের অপার এক সম্ভাবনার হাতছানি। বর্তমান সরকার এই সম্ভাবনার বিকাশে ইতিমধ্যে বেশ উদ্যোগী হয়ে কাজ করায় চট্টগ্রাম- কক্সবাজার- ঘুমধুম রেললাইনের মতো বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এই শিল্পের বিকাশে দেশের কয়েকটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্স অন্যতম। বিশালাকৃতির অভিজাত এই প্রমোদতরি নিরাপদে কক্সবাজার- সেন্টমার্টিন রুটে যাতায়াতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টার্মিনাল (জেটি) না থাকা। কক্সবাজারে নির্দিষ্ট পয়েন্টে টার্মিনাল নির্মাণ এবং সেন্টমার্টিনের টার্মিনাল দীর্ঘ করে এই জাহাজের যাত্রী আনা নেওয়ার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তি হবে বলে ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ।
দেশের অন্যতম সেরা প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে ঘিরে দেশী- বিদেশী পর্যটকের আকর্ষণের যেন শেষ নেই। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচল করা ট্রলার আর ছোট আকৃতির জাহাজে করেই বিগত দিনে পর্যটকরা প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করতেন। পর্যটকদের সমুদ্র ভ্রমণের আনন্দকে আরো বেশী আনন্দদায়ক করতে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কেয়ারীর উদ্যোগে কেয়ারী সিন্দাবাদ নামে একটি বড় আকৃতির জাহাজ কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিনে যাতায়াত শুরু করে বেশ কয়বছর আগে। এই জাহাজে ভ্রমণে ভীড় বাড়তে থাকে পর্যটকদের। পর্যটকদের আকর্ষণ জাহাজের প্রতি বেড়ে যাওয়ায় দেশের সেরা জাহাজ তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন যাতায়াতের জন্য একটি বড় জাহাজ তৈরি করেন। যে জাহাজের নাম রাখা হয়েছে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস। গত ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ এই জাহাজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে যাত্রী পরিবহন শুরু করে। কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৮০০ জন হলেও শীতকালে পর্যটক মওসুম শুরু হলে যাত্রীদের ভীড় বেড়ে যাওয়ায় অনেকটা ঝুঁকি থাকলেও সর্বোচ্চ ১০০০ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করতে হয় এই জাহাজকে। পর্যটকদের সমুদ্র ভ্রমণের আগ্রহ দেখে কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ আরো উন্নত, আধুনিক জাহাজ এই রুটে ভাসানোর জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। চলতি ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে অভিজাত প্রমোদতরি নিয়ে মনোনিবেশ করেন দেশের অর্থনীতির গতি সঞ্চারের প্রাণস্পন্দন ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ। পরবর্তীতে জাপানের অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের তৈরি একটি প্রমোদতরির খবর পান তিনি। জাপানের এই প্রমোদতরি আমদানীর জন্য সকল ধরনের প্রক্রিয়া শুরু করেন এম এ রশিদ। গত তিন মাস আগে জাহাজটি আমদানী করে কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্সের ইয়ার্ডে নিয়ে আসা হয়। টানা তিন মাস ধরে ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদের তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী আমদানী করা জাহাজকে পরিকল্পিতভাবে সাজানোর কাজ করেন। আমদানী করা অভিজাত এই প্রমোদতরির নাম রাখা হয়েছে এমভি বে ওয়ান।
গত ২০ ডিসম্বের সন্ধ্যায় এই জাহাজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্সের জেটিতে থাকা বে ওয়ানের অনুষ্ঠান মঞ্চে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।
উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মোঃ মাহবুব আলী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, কক্সবাজার-৩ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-২ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর আবু জাফর মোঃ জালাল উদ্দীন, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ। চলন্ত জাহাজে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল জাহাজের অনুষ্ঠান মঞ্চে অন্যরকম এক আকর্ষণ। রাতের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বাড়তি আকর্ষণ। এছাড়া অতিথিদের আনন্দ বাড়াতে বে ওয়ান কর্তৃপক্ষ আরো আয়োজন করেছেন যাদু। যাদু শিল্পীর হরেক রকম যাদু উপস্থাপনা সত্যিই অনুষ্ঠানের মান অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। চট্টগ্রাম থেকে প্রমোদতরি বে ওয়ান ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর যাত্রা শুরু করে কক্সবাজার গিয়ে নোঙর করে ২০ ডিসেম্বর দিবাগত গভীর রাতে। বড় আকৃতির এই প্রমোদতরি কক্সবাজারের উত্তর নুনিয়াছড়া লঞ্চ ঘাটে ঢুকতে পারে না। ফলে গভীর সাগরেই গভীর রাতে নোঙর করেছে বে ওয়ান। কক্সবাজারে নেমে যাওয়ার জন্য আগেভাগেই যে সকল অতিথি ও কক্সবাজারের সাংবাদিকরা তৈরী ছিলেন, তারা গভীর রাতেই ব্যাগ, লাগেজ গুছিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন। অতিথিদের  গভীর সাগর থেকে নুনিয়াছড়া লঞ্চ ঘাটে নিয়ে আসার জন্য প্রস্তুুত ছিল কর্ণফুলী এক্সপ্রেস। প্রমোদতরি বে ওয়ান সাগরের যে স্থান নোঙর করেছে, তা থেকে অতিথিদের নিয়ে নুনিয়াছড়া লঞ্চ ঘাটে ফিরতে কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের সময় লাগে এক ঘণ্টা থেকে সোয়া এক ঘণ্টা পর্যন্ত। কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সহজেই নুনিয়াছড়া লঞ্চ ঘাটে যাত্রী নিয়ে আসা যাওয়া করতে পারলেও বে ওয়ানের গভীরতা বেশী হওয়ায় এই জাহাজকে থাকতে হয় গভীর সাগরে। ফলে অতিথিসহ কক্সবাজারের সাংবাদিকরা গভীর রাতে প্রমোদতরি থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজে করে কক্সবাজার শহরে পৌঁছেছেন।
পরের দিন সকাল ৯ টায় প্রথম দিনের যাত্রী নিয়ে বে ওয়ানের গন্তব্যের সিডিউল ছিল সেন্টমার্টিন দ্বীপ। ভোরেই যাত্রীদের সিডিউল অনুযায়ী নুনিয়াছড়া লঞ্চঘাট থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজে তোলা হয়েছে। কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সিডিউল টাইমে এনে যাত্রীদের গভীর সাগরে অবস্থান করা বে ওয়ানের কাছে এসে নোঙর করে। বে ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ জাহাজের সংশ্লিষ্ট ক্রুগণ যাত্রীদের স্বাগত জানাতে বে ওয়ানের প্রবেশ পথে আগেভাগে অবস্থান নেন। যাত্রীদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেকিং করে তোলা হয় বে ওয়ানে। আগের ঘোষণা অনুযায়ী জাহাজে তুলেই প্রত্যেক যাত্রীদের কাছে প্রদান করা হয়েছে অভিজাত নাস্তার প্যাকেট। জাহাজে উঠেই যাত্রীদের মুখে দেখা যায় প্রাণচাঞ্চল্যকর হাঁসির ঝিলিক। জাহাজে প্রবেশ করতেই যাত্রীগণ প্রমোদতরির রুপ দেখেই আপন প্রেমিকের কথা যেন ভুলেই গেছেন। প্রমোদতরি বে ওয়ানের প্রেমে পড়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল যাত্রীরা জাহাজের নীচ তলার ডেক থেকে জাহাজের ছাদ পর্যন্ত ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। পাঁচ শতাধিক যাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল প্রমোদতরি বে ওয়ান। কক্সবাজার থেকে জাহাজটি সেন্টমার্টিন পৌঁছাতে সময় লেগেছে সাড়ে চার ঘণ্টা। টানা সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লাগলেও জাহাজে থাকা যাত্রীদের নির্দিষ্ট আসন ছিল বরাবরের মতো ফাঁকা। মাত্র পাঁচ থেকে দশ শতাংশ যাত্রীদের কিছু সময়ের জন্য নির্দিষ্ট আসনে বসতে দেখা গেলেও পুরো সময়জুড়ে ঘুরে ফিরে যাত্রীরা প্রমোদতরি বে ওয়ানের রুপ দেখতে দেখা গেছে। ভ্রমণ পিপাসু যাত্রীরা নিজেদের অত্যধুনিক মোবাইল সেট ও ক্যামরা দিয়ে জাহাজের ভিতরে এবং বাহিরে ছবি তুলতে রীতিমতো প্রতিযোগিতা করতে দেখা গেছে। যাত্রীদের চাহিদা মতো সেবা প্রদান করতে ব্যস্ত ছিলেন জাহাজের ক্রুদের সাথে স্বয়ং বে ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ সাহেবসহ পরিচালকগণও। ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সকল পরিচালকগণ এদিক থেকে ওদিক ঘুরে জাহাজে অবস্থান নেওয়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সকল সেবা নিশ্চিত করতে দেখা গেছে প্রমোদতরি সেন্টমার্টিন না পৌঁছা পর্যন্ত।
প্রথম দিনের যাত্রীদের মধ্যে শিশু- কিশোর, মহিলা, বৃদ্ধসহ সকলে জাহাজের দীর্ঘ করিডোরে দাঁড়িয়ে এবং বসে সাগরের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দেখা গেছে। করিডোরে দাঁড়িয়ে সাগরের বিশালতা উপভোগের যেন শেষ হচ্ছে না সকল যাত্রীদের।
চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রমোদতরি বে ওয়ান গভীর রাতে কক্সবাজার পৌঁছার পর অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া ভিআইপি অতিথি ও কক্সবাজারের সাংবাদিকরা নেমে পড়ায় রাতে প্রমোদতরি বে ওয়ান অনেকটা খালি হয়ে যায়। বেশ কয়েকজন ভিআইপি অতিথিদের সাথে আমরা কয়েকজন সাংবাদিক ছিলাম জাহাজে।
আমাদের সাংবাদিক টিমের মধ্যে ছিলেন, টিমের অগ্রজ জাতীয় দৈনিক আমাদের বাংলা’র সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, চৌধুরী মনি, সহকর্মী মোঃ আরফান উদ্দীন, মোঃ শহিদুল করিম, মোঃ জহির উদ্দীন, বদরুল হক, এস এম সালাউদ্দিন ও মোঃ ওসমান সরওয়ার। আমাদের গন্তব্য ছিল সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত।
পুরো দুই দিন দুই রাত আমাদের টিমের অগ্রজ সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কেটেছে প্রমোদতরিতে। জাহাজের অভিজাত ভিআইপি রুমে রাত্রিযাপনসহ নাস্তা, খাওয়া সবই হয়েছে জাহাজের ভিতরে। ফলে রাতের সাগর, ভোরের সাগর, সকালে সাগরে সূর্য্য উঠা, সন্ধ্যায় সাগরে সূর্য্য ডুবাসহ রাত ও দিনের সকল দৃশ্য উপভোগ করেছি ডানা উড়িয়ে।
বে ওয়ানের গভীরতা বেশী থাকায় সেন্টমার্টিনের লঞ্চঘাটে পৌঁছতে পারেনি যাত্রী নিয়ে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের অদূরে বে ওয়ান নোঙর করে অপর একটি ছোট আকৃতির জাহাজে করে অতিথিসহ প্রথম দিনের যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেন্টমার্টিনের লঞ্চঘাটে। বিকাল সোয়া ৩ টা নাগাদ যাত্রীসহ অতিথিরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে নেমে যে যার মতো করে সেন্টমার্টিন ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। বে ওয়ান থেকে যাত্রী নামার আগেই জাহাজের অভ্যর্থনা কক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ঘুরে যে সকল যাত্রীরা ফিরতি টিকেট কেটেছেন, তাদেরকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টায় কক্সবাজার ফিরে যাওয়ার জন্য ছোট আকৃতির জাহাজে উঠে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করতে হবে। ঘোষণা অনুযায়ী যাত্রীগণসহ সকল অতিথিরা সময় অনুযায়ী লঞ্চঘাটে ফিরে এসে জাহাজে আসন গ্রহণ করেছেন। সাড়ে ৫ টা বাজার কয়েক মিনিট আগে জাহাজের ক্যাপ্টেন জাহাজ ছাড়ার হুইসেল বাঁজিয়ে দেন। হুইসেল বাজানোর পর পিছিয়ে থাকা যাত্রীরা জাহাজ ধরার জন্য ঘাটের কাছে এসে বরাবরের মতো দৌঁড়াতে দেখা গেছে। জাহাজের ক্রুগণ সকল যাত্রীদের নিরাপদে জাহাজে তুলে নির্দিষ্ট সময়ের পাঁচ মিনিট পর ঠিক ৫ টা ৩৫ মিনিট নাগাদ প্রমোদতরি বে ওয়ানের উদ্দেশ্যে সেন্টমার্টিন লঞ্চঘাট ছেড়ে যায়। অতিথিসহ বে ওয়ানের সকল যাত্রীদের নিরাপদে তুলে নিয়ে বে ওয়ান কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
জাহাজ ভ্রমণকারী একাধিক যাত্রীদের অভিযোগ এই জাহাজ সত্যিই একটি অসাধারণ জাহাজ। তবে বে ওয়ানে ভ্রমণ করতে গিয়ে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে ছোট জাহাজে চড়ে এই জাহাজে উঠতে হচ্ছে। এতে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে অনেক। ছোট ছোট শিশু- কিশোরদের নিয়ে বারবার উঠানামা অবশ্যই বেদনাদায়ক। এধরনের অভিজাত জাহাজে পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুততার এগিয়ে এসে কক্সবাজারে টার্মিনাল(জেটি) নির্মাণের আহবান জানান জাহাজে ভ্রমণকারী সচেতন যাত্রীগণ। একই সাথে সেন্টমার্টিন লঞ্চঘাটকে বৃদ্ধি করে বে ওয়ানে যাতায়াতের পথ প্রশস্ত করারও দাবী জানান যাত্রীগণ। দেশের অন্যতম বৃহত্তম প্রমাদতরি বে ওয়ানের যাত্রাকে গতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে টার্মিনাল (জেটি) গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই বলে জানান  বে ওয়ানে ভ্রমণকারী যাত্রীদের অনেকে।
প্রমোদতরি বে ওয়ানে যেসকল সুযোগ সুবিধা রয়েছেঃ
এটি একটি যাত্রীবাহী ক্রুজশীপ। এটির গ্রস রেজিষ্টার্ড টনেজ ৫ হাজার ১৯ টন। ইঞ্জিন হর্স পাওয়ার ১১ হাজার ২০০ বি এইচ পি। জাহাজের ক্রু সংখ্যা ১৭ জন।  পুরো জাহাজজুড়ে যাত্রী সেবায় ক্রু সংখ্যা ১৫০ জন। জাহাজটির দৈর্ঘ্য  ৪০০ ফুট। জাহাজের প্রস্থ ৫৫ ফুট। উত্তাল সমুদ্রে মোকাবিলায় রয়েছে ফিন স্ট্যাবিলাইজার। জাহাজের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল। এই বিলাসবহুল  জাহাজের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা রয়েছে দুই হাজার জনের।
দেশের পর্যটন শিল্পে যোগ হওয়া বেসরকারী উদ্যোগের এই জাহাজে রয়েছে ৩২ টি অত্যাধুনিক কেবিন। এসব কেবিনের মধ্যে বিলাসবহুল কেবিনে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত যাওয়া আসা বাবদ ৩ জনকে ব্যয়  করতে হবে ৩০০০০ হাজার টাকা। সাথে থাকবে সকালের নাস্তা। এই কেবিনে রাত্রিযাপন করতে চাইলে অতিরিক্ত পে করতে হবে ১৫০০০ টাকা। সাথে দেওয়া হবে রাতের খাবার।
ভিভিআইপি কেবিনে দুইজন যাতায়াতে পে করতে হবে ২৫ হাজার টাকা। সাথে থাকবে সকালের নাস্তা। এই কেবিনে রাত্রিযাপন করার জন্য যাত্রীকে রাত্রিযাপনের জন্য পে করতে হবে ১৫ হাজার টাকা। সাথে দেওয়া হবে রাতের খাবার। জাহাজের ৩২ কেবিনে সমুদ্র ভ্রমণ এবং জাহাজে সমুদ্ররের বুকে  রাত্রিযাপনের জন্য উদ্বোধনের পর থেকে যাত্রীদের ভীড় রয়েছে অনেক বেশী।
এই আধুনিক প্রমোদতরিতে রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে এক্সিকিউটিভ বাঙ্কার স্যুট। বাঙ্কার স্যুটগুলো অবিকল অভিজাত ট্রেনের রিজার্ভ কেবিনের সিটের মতো। বাঙ্কার স্যুটগুলোতে উপরে নীচে করে দুইটি অত্যাধুনিক সিট রাখা হয়েছে। এসব সিটে রাত্রিযাপন করে সমুদ্রের বুকে ঘুমানো এবং রাতের সমুদ্র, ভোরের সমুদ্র, সকালে সমুদ্রের বুকে সূর্য্য উঠার দৃশ্যসহ অনেক কিছু উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। এই বাঙ্কার সিটে রাত্রিযাপনের জন্য প্রতিজন পর্যটককে ব্যয় করতে হবে মাত্র ২৫০০ টাকা। যে সকল পর্যটক কম খরচে সমুদ্রে ভ্রমণ করতে চান, তারা ডেকের চেয়ার সিটে বসে সেন্টমার্টিন আসা যাওয়া বাবদ মাত্র ৪০০০ টাকা পে করে, সাথে বাঙ্কার সিটে রাত্রিযাপনের জন্য অতিরিক্ত ২৫০০ টাকা পে করেই সমুদ্র ভ্রমণকে স্মৃতিময় করতে পারেন সহজেই। এই বিলাসবহুল জাহাজে বাঙ্কার সিট রয়েছে ১৬৬ টি। বাঙ্কার স্যুটে রাত্রিযাপনের খরচ আরো কমানো যায় কি না তা নিয়ে ভাবছেন বে ওয়ান কর্তৃপক্ষ। বাঙ্কার স্যুটের খরচ কমানো গেলে এই স্যুটে রাত্রিযাপনে ভ্রমণকারী পর্যটকদের আকর্ষণ বেড়ে যাবে পর্যটকদের এমন আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এই জাহাজে রয়েছে প্রথম শ্রেণির চেয়ার সিট। এই সিটের জন্য সেন্টমার্টিনে আসা যাওয়ার জন্য পর্যটকদের পে করতে হবে ৫০০০ টাকা। চেয়ার সিট ও প্রথম শ্রেণির চেয়ার সিটের টিকেট কেটে এই জাহাজে সেন্টমার্টিন টু কক্সবাজার ভ্রমণ করলেই জাহাজ কর্তৃপক্ষ সেবার মানসিকতা আরো উন্নত করতে সম্পূর্ণ ফ্রি তে দিচ্ছেন সকালের অভিজাত নাস্তার প্যাকেট। মজার এবং চিন্তামুক্ত বিষয় হলো এই জাহাজটি উত্তাল সমুদ্রে নিজ গন্তব্যে ছুটে চলার মতো ক্ষমতাধর একটি জাহাজ। হঠাৎ করে সমুদ্রে বৃষ্টি অথবা ঝড়ো বাতাস বয়ে গেলেও এই জাহাজ কোন রকমের সমস্যা ছাড়াই সমুদ্রে চলাচল করতে পারে। এই জাহাজে যাত্রী নিয়ে প্রথমদিনের ভ্রমণে দেখা গেছে, কেবিন, সিট যেখানেই টিকেট কাটুক যাত্রীরা তাদের আসনে বসে আসা যাওয়া করতে দেখা যায়নি। জাহাজে প্রবেশ করেই শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল যাত্রীগণ এই জাহাজের রুপ দেখে প্রেমে পড়ে যান সহজেই। ছয় তলা বিশিষ্ট এই বিশাল জাহাজে প্রবেশ করেই যাত্রীরা তাদের ব্যাগ, লাগেজ নির্দিষ্ট আসনে রেখে নীচ থেকে উপরে ঘুরে ফিরে জাহাজের রুপ দেখেন নিজের অজান্তে। জাহাজে ভ্রমণ করা যাত্রীগণ নিজেদের অজান্তেই পৃথিবীর সকল প্রয়োজনীয় কাজের কথাই ভুলে যান এই সময়। কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন পৌঁছতে এই জাহাজের সময় লাগে ৩ ঘণ্টা থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। এই ৩ ঘণ্টা থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় জাহাজে ভ্রমণকারী পর্যটকদের জাহাজের পুরো রুপ দেখা সম্ভব হয় না। পর্যটকরা জানান, এই মাত্র উঠলাম, কিভাবে ৩ ঘণ্টা থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় কেটে গেল বুঝলাম না। জাহাজতো পুরো দেখার বাকী রয়ে গেলো। ছবি তুলে যেসকল পর্যটক সমুদ্র ভ্রমণকে স্মৃতিময় করে রাখতে চান, তাদের দামী মোবাইল সেট এবং ক্যামরা থাকে ব্যস্ত। নিজেদের ইচ্ছে মতো সাগর জয়ের প্রেমিকা বে ওয়ানকে নিয়ে ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত থাকেন ছবি প্রেমিক শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল পর্যটকরা।
বে ওয়ানের সেবাসমূহঃ
একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক যেখানে সেবার জন্য পাগল, সেখানে সেবাপ্রার্থীদের কি আর কোন চিন্তা থাকে। জাহাজ বে ওয়ানে ভ্রমণ করে জাহাজের মালিকের সেবার মানসিকতা থেকে সত্যিই আশ্চর্য্য হলাম। জাহাজের মালিক ও কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ জাহাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের নিয়ে কেক কেটে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জাহাজের ফ্লোরে কেকের উচ্ছিষ্ট অংশ পড়ে থাকতে দেখে নিজেই এই কেকের অংশ টিস্যু দিয়ে তুলে জাহাজে থাকা নির্দিষ্ট বিনে ফেলেছেন। এই দৃশ্য আমাদের একজন সংবাদকর্মীর চোখকে ফাঁক দিতে পারেনি। মালিকপক্ষের এমন মানসিকতায় বলে দেয়, পর্যটকদের সেবার জন্য এই জাহাজ কতটুকু দায়বদ্ধ। শুধু মাত্র জাহাজে ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য মালিকপক্ষ জাহাজে ক্রু নিয়োগ দিয়েছেন ১৫০ জন। আগামীতে যাত্রীদের সেবার মান বাড়াতে জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ আরো বেশী সুযোগ সুবিধায় এই জাহাজকে সাজাতে চান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জাহাজে ভ্রমণকারী যাত্রীদের যাতে কোন ধরনের অসুবিধা না হয়, তার জন্য কর্তৃপক্ষের শীর্ঘ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সার্বক্ষণিক জাহাজটি মনিটরিং করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।
কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ দৈনিক আমাদের বাংলাকে জানান, আমি বিগত দিনে জাহাজ তৈরি করে দেশী বিদেশী ক্রেতাদের মাঝে সরবরাহ করেছি। আমি জাহাজে যাত্রী পরিবহনের ব্যবসায়ী নয়। কক্সবাজার টু সেন্টমার্টিন রুটের পর্যটকদের ভ্রমণ দেখে, এসব পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ করতেই আমি উন্নত সেবায় যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি মাথায় নিয়েছি। এছাড়া দেশের পর্যটন শিল্পকে আরো বেশী আধুনিক করতে আমি বিলাসবহুল জাহাজ নিয়ে ভাবতে থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় গত এক বছর আগে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস নামে একটি জাহাজ নিজেই তৈরি করে যাত্রী পরিবহন শুরু করি। কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজে যাত্রীদের চাপ দেখে, আরো উন্নত জাহাজ নিয়ে গবেষণা করে বে ওয়ান নামের এই প্রমোদতরি  এই রুটে ভাসানো হয়েছে। বে ওয়ান আশাকরি দেশী বিদেশী সকল পর্যটকদের মনোরঞ্জনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই জাহাজের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের বিকাশ ঘটবে বলে আমার(এম এ রশিদ) বিশ্বাস রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সমুদ্র ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের সুবিধার্থে আরো আধুনিক ও মানসম্পন্ন জাহাজ বঙ্গোপসাগরের বুকে ভাসানোর ইচ্ছে রয়েছে। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতাও আশা প্রকাশ করেছেন বে ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ রশিদ।
কর্ণফুলী শীপ বিল্ডার্সের পরিচালক নাসিম আনোয়ার জানান, আমাদের দেশে পর্যটন শিল্পের যেভাবে বিকাশ হওয়ার প্রয়োজন, তা না হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে, সেবার মান যথাযথ না হওয়া। ব্যবসায়িক মানসিকতা সবচেয়ে বেশী প্রাধান্য থাকায় যেভাবে এই শিল্প এগিয়ে যাওয়ার কথা, তার সঠিক জায়গায় পৌঁছতে পারছে না। এছাড়া আমাদের দেশের উদ্যোক্তাসহ সকলের কাছে সময়ের প্রতি কোন গুরুত্ব না থাকাও এর বাঁধা বলে আমার বিশ^াস। সেবার মান যেনতেন হওয়ায় পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এই খাত থেকে। উদ্যেক্তার অভাব এবং মান সম্পন্ন জাহাজ না থাকায় সমুদ্র বিহার অথবা ভ্রমণে পিছিয়ে রয়েছে দেশী- বিদেশী পর্যটকরা। সেবায় একজন গ্রাহকের আকর্ষণের মূল হাতিয়ার। ফলে কাং্খিত সেবা না থাকায় গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেছন না উদ্যোক্তরা। পর্যটন শিল্পের বিকাশে এগিয়ে আসা উদ্যোক্তাগণ বিভিন্ন এলাকার বনেদি চাঁদাবাজদের উৎপাতে বড় পুঁজির কোন শিল্প গড়ে তুলছে আগ্রহী হচ্ছেন না। এছাড়া দেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে উদ্যোক্তারা ইচ্ছে থাকলেও এগিয়ে আসছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে বলে জানান উদ্যোক্তা নাসিম আনোয়ার।
বে ওয়ান প্রমোদতরির ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সেলিম জানান, এই জাহাজটির ইঞ্জিনসহ সব ধরনের মেকানিক্যাল সিস্টেম আধুনিক। জাহাজটি উত্তাল সমুদ্রে চলাচলের জন্য রয়েছে হিল সিস্টেম। ফলে জাহাজটি একপাশে ঝুঁকে গেলে জাহাজে থাকা পাকা দিয়ে এই জাহাজ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে। এই জাহাজের বৈদ্যুতিক সিস্টেমসহ সব ধরনের সিস্টেম অসাধারণ। এই জাহাজে কাজ করে বেশ মজা লাগছে। কর্তৃপক্ষসহ ক্রু সকলেই বেশ আন্তরিকতার যাত্রীসেবায় কাজ করছেন। আশা রাখি এই জাহাজ পর্যটকদের কাঙ্খিত মনোরঞ্জনে মাইলফলক হয়ে থাকবে। 

রিটেলেড নিউজ

চন্দনাইশে ওপেন হাউজ ডে সভা অনুষ্ঠিত

চন্দনাইশে ওপেন হাউজ ডে সভা অনুষ্ঠিত

চন্দনাইশ প্রতিনিধি : : চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নে চন্দনাইশ থানা পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিং এর আয়োজনে ওপেন হাউজ ডে অন...বিস্তারিত


হাটহাজারী মডেল থানায়

হাটহাজারী মডেল থানায় "ওপেন হাউজ ডে  অনুষ্ঠিত"

হাটহাজারী প্রতিনিধি : : হাটহাজারী মডেল থানায় গত ১০ জানুয়ারি ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাটহা...বিস্তারিত


বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস কাল

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস কাল

ঢাকা অফিস : : আগামীকাল ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্...বিস্তারিত


বান্দরবানে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত 

বান্দরবানে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত 

বান্দরবান প্রতিনিধি : : বান্দরবানে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বান্দরব...বিস্তারিত


প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের চাকরির মেয়াদ বাড়লো দু’বছর

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের চাকরির মেয়াদ বাড়লো দু’বছর

ঢাকা অফিস : : প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের চাকরির মেয়াদ চুক্তিতে আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। আগামী ...বিস্তারিত


কিশোরীর অশ্লীল ভিডিও ইন্টারনেটে, যুবক গ্রেপ্তার

কিশোরীর অশ্লীল ভিডিও ইন্টারনেটে, যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযো...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

আসন্ন পটিয়া পৌর নির্বাচনে দল চাইলে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন তৌহিদুল আলম

আসন্ন পটিয়া পৌর নির্বাচনে দল চাইলে মেয়র পদে প্রার্থী হবেন তৌহিদুল আলম

পটিয়া প্রতিনিধি : : বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পটিয়া ...বিস্তারিত


আসন্ন পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বড় দুই দল সহ অনেকই মনোনয়ন দৌড়ে

আসন্ন পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বড় দুই দল সহ অনেকই মনোনয়ন দৌড়ে

মুহাম্মদ রুশনী মোবারক, পটিয়া : : আগামী নভেম্বর ২০২০ ইং মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে, চলবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর