শিরোনাম :


বিষয় :

বহদ্দারহাটে হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রথম আন্ডারপাস


২১ মে, ২০২৪ ৩:১২ : অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার : আরাকান সড়কের নিচ দিয়ে পথচারী পারাপারের জন্য ৪১ দশমিক ২ মিটার দৈর্ঘ্যের আন্ডারপাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এটি হবে চট্টগ্রামের প্রথম আন্ডারপাস। পাশাপাশি দেশের প্রথম স্কেলেটরযুক্ত আন্ডারপাস। প্রকল্পের নথি অনুসারে, আন্ডারপাসটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা। বহদ্দারহাট পুলিশ বক্সের সামনে থেকে আরাকান সড়কের উত্তর পাশে আন্ডারপাসের মধ্যে দিয়ে চলাফেরা করা যাবে। আন্ডারপাসটি হবে ৪১ দশমিক ২ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ মিটার প্রশস্ত। এর উচ্চতা ৪ মিটার। দুই প্রবেশ মুখে একটি করে দুইটি সিঁড়ি থাকবে। থাকবে একটি করে দুইটি স্কেলেটরও (চলন্ত সিঁড়ি)। আন্ডারপাসের ভেতর হকার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দুইপাশে ১০টি করে ২০টি দোকান নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি দোকানের জন্য আন্ডারপাসের ২ দশমিক ৭৫ মিটার জায়গা লাগবে। এসব দোকান বাদ দিলে মাঝখানে সাড়ে ৪ মিটার বা প্রায় ১৫ ফুট জায়গা থাকবে মানুষের হাঁটার জন্য। এ বিষয়ে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘বহদ্দারহাট খুব গুরুত্বপূর্ণ মোড়। প্রতিদিন প্রচুর মানুষের জমায়েত হয় সেখানে। তো প্রচুর গাড়িও আসা–যাওয়া করে। তাই লোকজন রাস্তা পারাপার করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে। লোকজন স্বাচ্ছ্যন্দ্যে ও নির্ভয়ে রাস্তা পার হতে পারে না। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। মানুষ যাতে খুব সহজে রাস্তা পার হতে পারে তাই আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, বাস্তবায়ন হতে যাওয়া আন্ডারপাসে কিছু হকারকেও বসার ব্যবস্থা করা হবে। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে এর নকশা প্রণয়ণের কাজ শেষ হয়েছে। আন্ডারপাসের নকশা প্রণয়নে কাজ করেছে ‘ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট লিমিটেড (ডিপিএম)’। ডিপিএম এর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, বহদ্দারহাট মোড়ে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে এক হাজারের বেশি লোক রাস্তা পারাপার করেন। কয়েকটি সড়কের সংযোগ থাকায় এ মোড়ে গাড়ির চাপও থাকে বেশি। ফলে রাস্তা পারাপারকারীদের সবসময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। মহিলা, শিশু এবং বয়স্কদের এ ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনায় পথচারীদের আহত হওয়ারও খবর রয়েছে। এ অবস্থায় আন্ডারপাস নির্মাণ হলে দুর্ঘটনা এড়িয়ে নির্বিঘ্নে রাস্তা পারাপার করতে পারবেন পথচারীরা। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলী মোজাফ্ফর আলী মামুন বলেন, ‘নির্মিত হতে যাওয়া আন্ডারপাসে শুধু মানুষ পারাপার হবে। আমরা যে স্টাডি করেছি তাতে দেখেছি প্রতি ঘণ্টায় গড়ে হাজারের বেশি লোক রাস্তা পারাপার করে বহদ্দারহাটে। পিক আওয়ারে সেটি আরো বেশি। বিপুল সংখ্যক যে মানুষ রাস্তা পার হন তাদের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। আন্ডারপাস হলে সেটি আর থাকবে না। আধুনিক সব সুবিধা থাকবে আন্ডারপাসে। রাস্তা পার হতে গিয়ে বয়স্ক এবং অসুস্থদের সমস্যা হয়। স্কেলেটর থাকায় সে সমস্যাও হবে না। বহদ্দারহাটের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্ডারপাসে যেন পানি প্রবেশ না করে সেভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দুই প্রবেশমুখে ক্যানোপি থাকবে। ক্যানোপির ফলে পানি ঢুকতে পারবে না। এটা ফ্ল্যাড লেবেল থেকে অনেক উঁচু হবে। মূল সড়কের পাশে যে ফুটপাত তার চেয়ে আরো দুই ফুট উঁচু হবে সেটি। এরপরও যদি কোনো কারণে পানি প্রবেশ করে তা নিষ্কাশনে দুইটি পাম্প থাকবে সেখানে।’

আরো সংবাদ