ই-পেপার | শনিবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
×

আনোয়ারা বটতলী ভূমি অফিসে ক্যাজুয়েল ফারুক অফিসের হর্তা কর্তা

আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না। সেবা নিতে সেখানে পদে পদে ঘুষ দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সেবাপ্রার্থীরা।

অত্র অফিসের ক্যাজুয়েল ফারুক ঘুষের টাকায় আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনেছে। অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সহকারী ক্যাজুয়েল ফারুক অত্র অফিসের হর্তা কর্তা।

ফারুক অফিসের কর্মকর্তাদের হাতে নিয়ে প্রতিটি সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। ফারুকের কাছে ঘুষের টাকা না দিলে প্রস্তাব লিখার জন্য ফাইল যায় না বড় মিয়ার টেবিলে। ঘুষের টাকা না দিলে মাসের মাস পরে থাকে নামজারী ফাইল। পরবর্তীতে কোন কারণ দর্শানো ছাড়া ফাইল খারিজের তালিকায় চলে যায়। ফারুক ফাইল তৈরি করে দিলে সে ফাইলগুলোতে স্বাক্ষর করেন ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা।

বটতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারী, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, মিস কেসসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ ফারুকের হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। ফারুক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার রুমে বড় টেবিল চেয়ার সাজিয়ে কম্পিউটার নিয়ে বসে সেজে গেছেন বড় কর্মকর্তা। অথচ অত্র অফিসের ক্যাজুয়েল কর্মচারী হয়ে এমন ভাব নিয়ে দাপুটে কথাবার্তা বলা ফারুকের আচরণে সেবাগ্রহীতারা প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। ভূমি অফিসে আসা অধিকাংশ ভুক্তভোগীদের মুখে একই কথা হয়রানি আর ভোগান্তি কী তা এখানে না এলে বোঝা যায় না।

অফিসে সেবা নিতে আসা সকল ব্যাক্তিদের প্রত্যেক ধাপে ঘুষ দিলেই ফাইল এসিল্যান্ডের টেবিল পর্যন্ত পৌঁছানো হয়। ভূমি সংশ্লিষ্ট সেবা নিতে আসা সরকারি এসব অফিসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভূমি মালিকদের। ফারুখ অত্র অফিসে কর্মকর্তাদেরকে অবৈধ টাকার বিনিময়ে জিম্মি করে মহা দাপট দেখায়। কর্মকর্তারাও ফারুখে কাজে সম্মতি দিয়ে কাজ চালিয়ে যায়। টাকা না দিলে ফাইল হয়ে যায় খারিজ। বৈরাগ গ্রামের গোলাম হোসেন নামের এক সেবাগ্রহীতা জানান, ফারুখ আমার একটা নামজারী ফাইলের প্রস্তাব লিখার জন্য অনেক দিন ঘুরাঘুরি করে ৫ হাজার টাকা নিয়ে তারপরে প্রস্তাব লিখে এসিল্যান্ড অফিসে দেন। ভোক্তভোগীদের অভিযোগ ফারুখ কে অত্র অফিস থেকে বদলী অথবা চাকরীচ্যুত করে ভূমি মন্ত্রীর নিজ এলাকায় ভূমি সেবা নিশ্চিত করা। বটতলী ভূমি অফিসের এমন কোন ফাইল নাই যাহাতে প্রস্তাব লিখার জন্য কমবেশি ঘুষ গ্রহণ করা হয় নাই। বন্দর গ্রামের মুহাম্মদ ওসমান খাঁন জানান, বটতলী ভূমি অফিস দুর্ণীতির স্বর্গরাজ্য পরিণত হয়েছে। এন্তেজার নামের এক অফিসার আমাকে একটি মিস মামলা জন্য দেড় বছর যাবত ঘুরাঘুরি করাইতেছে। তিনি নিজেকে সচেতন মানুষদাবী করে বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে আমি জায়গা জমির নিয়ে কাজ করতেছি। এন্তেজার টানেলে অধিগ্রহণ কৃত জায়গা হতে খাজনা দাখিলা কাটতে এক হাজার টাকার খাজনা দাখিলার জন্য একলক্ষ টাকা, সত্তর হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন, এন্তেজারে নামে বেনামে গড়েছেন অটেল সম্পত্তি। তাহার সম্পত্তির খবর নিতে তিনি দুদকের কাছে দরখাস্ত দেবেন বলে সাক্ষাৎকার দেন। মোহাম্মদ রেজাউল করিম নামের একব্যাক্তি বলেন, এন্তেজার আমার দখলের সম্পত্তি অবৈধ টাকার বিনিময়ে আরেকজনের নামে খতিয়ান সৃজন করার জন্য প্রস্তাব লিখে এসিল্যান্ড বরাবরে পাঠান। যাহা এসিল্যান্ড বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে জানিয়ে রেখেছেন বলে জানান। বর্তমানে অত্র অফিসের ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করতেছেন এন্তেজার উদ্দিন। তাহার সহযোগী হিসেবে আছেন ফারুখ। দুইজনে সেবার নামে খাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতিদিন অবৈধ টাকা হয়রানি করতেছে সেবাগ্রহীতাদের। এ ব্যাপারে এন্তেজার উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে গিয়ে কথা বলার জন্য বলেন। এব্যাপারে অভিযুক্ত ক্যাজুয়েল কর্মচারী ফারুখকের কাছে জানতে মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। বটতলী ভূমি অফিস হতে সকল সেবা প্রাপ্ত ব্যাক্তিদের নিয়ে গণশুনানি করে সেবা নিশ্চিত করতে এসিল্যান্ডে বরাবরে আহবান জানান সচেতন নাগরিকগন।