শিরোনাম :


বিষয় :

পতেঙ্গায় নিরিবিলি হোটেলের রমরমা দেহব্যবসা বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


৩ জুন, ২০২৩ ১০:১১ : অপরাহ্ণ

নগরীর পতেঙ্গা ৪০ নং ওয়ার্ডস্থ  হোসেন আহমেদ পাড়ার ‘নিরিবিলি আবাসিক হোটেল’ এর অনৈতিক, অসামাজিক ও রমরমা দেহব্যবসা বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা। ৩ জুন (শনিবার) সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস.রহমান হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের লিখিত বক্তব্য থেকে জানায় যায়, ‘নিরিবিলি আবাসিক হোটেলটির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে রয়েছে নৌ-বাহিনীর উল্কা ঘাঁটি, পূর্বে মসজিদ-মাদ্রাসাসহ জিইএম প্লান্টের স্টাফ কলোনী ও পাশে রয়েছে ৪০ থেকে ৫০ পরিবারের একটি পাড়া। হোটেলটিতে শুরু থেকে চলে আসছে অনৈতিক, অসামাজিক ও রমরমা দেহব্যবসা। এতে এলাকার যুবক শ্রেণি অনৈতিক কাজের সুযোগ-সুবিধা হাতের কাছে পেয়ে ধ্বংস হচ্ছে তাদের চরিত্র। বেড়েই চলছে পারিবারিক অশান্তি থেকে শুরু করে সামাজিক কলহ। এতে নিরাপত্তা ও হুমকির মুখে আছে পুরো সমাজ।

উক্ত এলাকার নিরিবিলি হোটেলসহ আরো কয়েকটি আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর আব্দুল বারেককে সুষ্ঠ সমাধানের জন্য বলা হলেও মিলেনি কোন প্রতিকার। ১৯ মে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে হোটেল  ভবনের মালিক জসিম ও হোটেল কর্তৃপক্ষ  মুহাম্মদ দুলালকে তাদের হোটেলে অসামাজিক কার্ক্রম বন্ধ করতে অনুরোধ করলেও তাদের পক্ষ থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া মিলেনি।

বরং হিতে-বিপরীত আরো বড় পরিসরে বেড়েছে দেহ ব্যবসা। ২৬ মে হাজার হাজার এলাকাবাসী মিলে এই হোটেলের অপকর্মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে। গণমাধ্যমেও ঢালাওভাবে প্রচার হয়। এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সাংসদ ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলরকেও অবগত করার পরও কোন বিহিত হয়নি।

তারা আরো জানান, এলাকাবাসী এই অপকর্মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ হওয়ায়, এ সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত বাহির থেকে কতিপয় ভাড়াটে যুবক এনে হোটেলের ভিতর লুকিয়ে রাখে ও কাউন্সিলর আবুল বারেকও একটি গুন্ডা বাহিনী প্রেরণ করে।

মুসল্লি ও এলাকাবাসী হোটেলের সামনে গেলে ভাড়াটে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে লাঠিসোটা, চেইন কিরিচ নিয়ে হামলা করে। এবং করেকজন মুসল্লিকে টেনে-হেচড়ে নিয়ে হোটেলের ভিতর জখম করে। এতে বহু মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীকে ফাসানোর জন্য নীল নকশা বাস্তবায়েনের লক্ষে ভাড়াটে সন্ত্রাসী হোটেলে ভাংচুর ও তাণ্ডব চালায় এবং কাউন্সিলর আবুদুল বারেকের সহযোগীতায় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় মামলা করে। যার মামলা নং ৮(৫) ২৩।  এই মামলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন এলাকাবাসীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ বিষয়ে তারা মামলা করতে চাইলেও  কাউন্সিলরে সাহায্যে মামলা নেয়নি পুলিশ। তারা এবিষয়ে কাউন্সিলরের বাসায় গেলেও কাউন্সিলর দরজা বন্ধ করে দিয়ে কথা বলেনি।

তারা আরো জানান, বিভিন্ন সুত্র থেকে তারা জানতে পারে, কাউন্সিলর আব্দুল বারেক এই হোটেল থেকে মাসোয়ারা নেয় তাই তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষ দুলালের পক্ষে কাজ করছে। এই হোটেল কর্তৃপক্ষ দুলাল স্থানীয় প্রতিনিধির সহযোগীতায় দেদারসে অসামাজিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আর নানাভাবে স্থানীয় এলাকাবাসীর উপর নির্যাতন করছে।

এই যেন মধুর সম্পর্ক স্থানীয় কাউন্সিলর,পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষের। এলাকাবাসী তাদের এই বহাল তবিয়তে দেহব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বন্ধ করতে প্রশাসনের সহযোগিতা ও  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো সংবাদ