শিরোনাম :

অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীরের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে মানবন্ধন-‘সভাপতি রাকিবের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তোলেছে শিক্ষক সংগঠন ‘


৪ মে, ২০২৩ ৫:২৯ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার শাহ নগর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের স্ট্রোক করে মারা যাওয়ায় ঘটনায় পরোক্ষভাবে মানসিক চাপসৃষ্টি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি রাকিব বিন তৌহিদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৪ মে) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্ত্বরে অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীরের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সভাপতি রাকিব চৌধুরীর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রামের প্রায় সবকটি শিক্ষক সংগঠন।

বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, ‘শাহ নগর স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম একজন প্রতিষ্ঠান প্রধান হয়েও স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না। কারণে-অকারণে সভাপতি ও সভাপতির আশেপাশের বিভিন্ন বৈধ-অবৈধ শক্তি তাকে চাপে রাখতো। অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের ওপর অমানবিক আচরণ, মানহানিমূলক কথাবার্তা ও নানাবিধ চাপিয়ে দেওয়া মানসিক চাপ সইতে না পেরে তিনি স্ট্রোক ও মৃত্যুবরণ করেন’।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ‘অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যু কোন স্বাভাবিক মৃত্যু না। তাকে পরোক্ষভাবে হত্যা করা হয়েছে। অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সাথে অমানবিক ও অশালিন আচরণ করায় সভাপতি ও তার অপরাপর সহযোগিরা অধ্যক্ষের মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক’।

এসময় তারা চলমান গৰ্ভণিং বডি বাতিল করার দাবি তুলে বলেন, ‘বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রচলিত গভর্নিং বডি প্রথা বাতিল করে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করা হোক। সর্বোপরী দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিরাজমান বিশৃঙ্খলা দূরীকরণে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের বিকল্প নেই। তাই অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করার দাবি জানাচ্ছি’।

প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সামাবেশে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সভাপতি এম এ ছফা চৌধুরী, বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ ফটিকছড়ির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই মঞ্জুর আলী, বড় ছেলে তারেকুর রহমানসহ আরও অনেকেই।

এর আগে সোমবার (১ মে) বিকালে অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন বিদ্যালয়ের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, শাহ নগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গত ২৭ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে চট্টগ্রাম শহরের বাসায় ফেরার পথে নাজিরহাট নামক স্থানে স্ট্রোক করেন। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাজিরহাট সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হসপিটালে রেফার করেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হসপিটালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক কল রেকর্ড ফাঁস হয়। কল রেকর্ডে অধ্যক্ষকে পদত্যাগ করতে সভাপতি বিভিন্ন হুমকি-ধমকি ও মানসিক চাপসৃষ্টিমূলক কথাবার্তা বলতে শোনা যায়। ফাঁস হওয়া একটি কল রেকর্ডে সভাপতি কথা দিয়ে অধ্যক্ষের প্যান্ট খুলে নেয়ার হুমকি দিতেও শোনা যায়।

আরো সংবাদ