শিরোনাম :

অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে – ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা


৩ এপ্রিল, ২০২৩ ৮:০৩ : অপরাহ্ণ

আজ ৩ এপ্রিল ২০২৩, সোমবার, বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিক সামসুজ্জামানের মুক্তি, নওগাঁয় র‌্যাব হেফাজতে সুলতানা হত্যার বিচার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবীতে সমাবেশ ও মিছিল করেছে ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা। মোর্চার সমন্বয়ক নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেনের সভাপতিত্বে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহিন উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, গণমুক্তি আন্দোলনের আহবায়ক নাসির উদ্দিন আহমেদ নাসু ও জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সভাপতি মাসুদ খান। সমাবেশ শেষে পুরানা পল্টন মোড়ে বিক্ষোভ মিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন মোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন।

জাফর হোসেন বলেন, একদিকে সরকার বিদ্যুত গ্যাসসহ সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়িয়েছে তাতে গরীব মানুষ এখন আর পোল্ট্রী মুরগীর মাংস কিনতে পারছেন না। ঠিকমত তিনবেলা খাবার জোগাড় করতে পারছেনা। বিক্ষুদ্ধ জনগণ যাতে কোন প্রতিবাদ করতে না পারে সেজন্যই সরকার ত্রাসের রাজত্ব তৈরী করছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন পীড়ণ নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এসবের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তিনিসহ বক্তারা জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

শুভ্রাংশু চক্রবর্তী বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধিসহ শোষন-নিপীড়ণ-অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণ যাতে প্রতিবাদ করতে না পারে তা নিশ্চিত করার জন্য দমনের হাতিয়ার হিসেবে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই কালাকানুনসহ দমনমুলক সকল আইন, বাহিনী, প্রতিষ্ঠান, ব্যবস্থা উচ্ছেদ করতে হবে।

নাসির উদ্দিন আহমেদ নাসু বলেন, গভীর রাতে সাদা পোষাকে সিআইডি কর্তৃক সাংবাদিক সামসকে তুলে নেয়া ও ২০ ঘন্টার বেশী সময় গুম করে রাখার ঘটনাই প্রমান করে দমন-নির্যাতন চালাতে সরকার কোন আইন-কানুনেরও পরোয়া করে না। অথচ, দমন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ করাই হলো লাখো শহীদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা। অত্যাচার-অবিচার চালানো ফ্যাসিবাদী সরকারই আজ জনগণের স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার হিসেবে হাজির হয়েছে।

মহিন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মাছ মাংস চাইলের স্বাধীনতা চাই এটা তো জনগণের মনের কথা। জনগণের কথা বলার যে অধিকার যে নাই সাংবাদিক সামসকে আটক, পত্রিকা সম্পাদককে হয়রানি থেকে সেটা আবারো প্রমানিত হলো। একজন যুগ্ম সচিবের নির্দেশে সুলতানাকে তুলে নির্যাতন করে মেরে ফেললো, তারপর মামলা দিলো। এসবে আবারো প্রমান হলো, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ফ্যাসিবাদী নির্যাতনের হাতিয়ার ছাড়া অন্য কিছু নয়।মাসুদ খান বলেন, আমরা দেখলাম ফ্যাসিবাদী নিপীড়ণের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে, নিপীড়নের পক্ষে সমর্থন ও বৈধতা দিতে আজ কাজ করছে কিছু সংবাদ মাধ্যম, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও তাদের সংগঠন। নিপীড়ক সরকারের দোসর ও হাতিয়ার হিসেবে উম্মোচিত এই গণবিরোধীদেরও বিচার করতে। সেজন্য শ্রমিক কৃষক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলতে হবে।

আরো সংবাদ