ই-পেপার | মঙ্গলবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
×

সন্দেহ!

বানুকে নিয়ে মরিয়মের সন্দেহ হয়। কিন্তু এই সন্দেহের বিষয়টা সে কার সাথে শেয়ার করবে বুঝতে পারে না। আবার অস্বস্থিও কাটে না। তার নতুন বিয়ে হয়েছে। জামাই ইঞ্জিনিয়ার, কেবল রেজাল্ট হয়েছে। এখনও কোথাও জয়েন করেনি। দারুণ সুদর্শণ। প্রথম যেদিন দু পক্ষের লোকজন একত্রে বসে, তাদের প্রথম দেখা হয়। সেদিনই আনোয়ারকে দেখে তার কেমন যেন ভয় ভয় লাগছিল। সে ইজি হতে পারে নাই। অথচ মরিয়মের বাড়ির সবারই আনোয়ারকে দারুণ পছন্দ হয়েছিল।

আনোয়ার আর সে যখন একা বসে কথা বলছিল তখন আনোয়ার খুব স্বভাবিক সাবলিল ভাবেই কথা বলছিল কিন্তু তবু মরিয়মের ভয়ে বুক কাঁপছিল। কেন সে ভয় পাচ্ছে এই ব্যাখ্যা সে নিজের কাছেই খুঁজছিল।

সে সবে এইচএসসি পাশ করেছে। ইউনিভার্সিটি ভর্তি হতে চায়। বাবা কিছুতেই চায় না সে অবিবাহিত অবস্থায় ইউনিভার্সিটিতে যাক। বাবার কথা হলো আমি বেঁচে থাকতেই শান-শওকতের সাথে আমার একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়ে যেতে চাই। আমি না থাকলে ছেলেরা কেমন দিবে থুবে কে জানে! বিয়ে হোক জামাই পড়াবে। এ বিষয়ে অবশ্য কথা হয়েছে, আনোয়ার খুব আনন্দের সাথে বলেছে কোন অসুবিধা নাই। পড়তে চাইলে পড়বে। তবু মরিয়মের ভয় লাগছে। এমন সুদর্শণ একজন মানুষ, সে কি দেখে মরিয়মের মত সাদাসিধা একজনকে বিয়ে করছে? ভালোবাসবে তো? মরিয়ম আড়ষ্ট হয়ে রইল। ভয়ও কাটল না।

মরিয়মের বিয়ে চলল পাঁচদিন ধরে। মরিয়মের বাবা গাড়িসহ বাড়ি সাজিয়ে দিল মেয়ের জন্য। এতকিছু নিয়ে এসেছে সে, শ্বশুর বাড়িতেও তার খুবই কদর। তার শ্বশুড়ি শুধু মরিয়মের সেবার জন্য ১৪/১৫ বছর বয়সের বানুকে নিয়ে এসেছে তার নিজ গ্রাম থেকে। কোথাও কোন ছন্দপতন নেই, সবই তালে চলছে। প্রতিদিনই নিয়ম করে দাওয়াত খেতে মুভি দেখতে বন্ধুদের বাড়ি বেড়াতে যাওয়া হচ্ছে।

বিয়ের প্রায় চার মাস চলছে। মরিয়ম কনসিভ করেছে। তার শরীর ভালো যাচ্ছে না। সে শুধু ঘুমায় আর জেগে থাকলে বমি করে। শ্বশুড়বাড়ির সবাই ব্যস্ত তাকে নিয়ে। আর সে অকারণ টেনশন করছে বানুকে নিয়ে। বানু যে খুব সুন্দর তেমন মোটেও নয়। গায়ের রং বেশ কালো হাইটেও বেশ খাটো তবে ঝকঝকে দাঁত, সুন্দর হাসি আর উঠতি বয়সের ঢলঢল সৌন্দর্য। মরিয়মের এসব ভাবনায় বিষন্নতা ভর করে। এমন সময় তার মা তাকে নিয়ে গেল শ্বশুরালয় থেকে। টানা একমাস সে বাবার বাড়িতে থাকল। এসময় আনোয়ারও কোন কোন দিন এসে থেকেছে তার সাথে। একই শহরে বাবার বাড়ি হওয়ায় তার শ্বাশুড়িও এসেছে মরিয়মকে দেখতে। মরিয়ম তাদের বাড়ির প্রথম বউ প্রথম নাতি আসছে উচ্ছ্বাসটা যেন একটু বেশিই তাদের।

মাসখানেক থাকার পর একদিন দুপুরে খাওয়া শেষে হঠাৎ মরিয়ম তার মাকে বলল সে তার শ্বশুরবাড়িতে যাবে। আজ এবং এক্ষুনি। মা জানে মেয়েকে আটকাতে পারবে না তাই নিজেই নিয়ে গেল মেয়েকে। মরিয়মের শ্বাশুড়িই দরজা খুলে দিল। মরিয়ম তার ঘরের দিকে যেয়ে দেখে দরজা বন্ধ। সে একটু অবাক হলো, ভাবল এমনিই হয়ত দরজা ভিড়িয়ে দেয়া কিন্তু ঠেলতেও না খোলায় সে নক করল। তার মা পিছন থেকে বলল এসেই ঘরে ঢোকার কি হলো? একটু বস সোফায়, জিরিয়ে নে। ততক্ষণে আনোয়ার দরজাটা একটু ফাঁক করে দেখে মরিয়ম। সে ভীষণ চমকে উঠে দরজা থেকে সরে দাঁড়ালো। মরিয়ম দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে দেখে আনোয়ার দিগম্বর হয়ে আছে আর আলমারীর পাশে বানুর পা দেখা যাচ্ছে।

এই অদ্ভূত দৃশ্য দেখে তার মাথা কেমন করছে। সে টলছে।