ই-পেপার | মঙ্গলবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
×

পুলিশ-হেফাজতে নির্যাতনে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ বরাবর মোস্তাকিমের আবেদন

পাঁচলাইশ থানায় মামলা নং ৭(০১)২৩, ধারা- ১৪৩/৩৩২/৩৫৩ দঃবিঃ মামলায় গ্রেফতার করে পরবর্তীতে পুলিশ হেফাজতে অমানবিক নির্যাতনের প্রতিকার এবং মানবিক কারণে মিথ্যা, হয়রানীমূলক মামলা রাষ্ট্রপক্ষে প্রত্যাহারের জন্য আজ লিখিত ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, সচিব ও আইজিপি বরাবরে . আবেদন করেছে উক্ত মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় অভিযুক্ত মোস্তাকিম ।

আবেদনকারী সৈয়দ মোহাম্মদ মুনতাকিম প্রঃ মোস্তাকিম (২৩), পিতা- মরহুম সৈয়দ মোহাম্মদ খালেদ আজম, মাতা- নাসরিন আক্তার, ফজু খলিফার বাড়ি, গ্রাম- ধর্মপুর, থানা- ফটিকছড়ি, উপজেলা- ফটিকছড়ি, জেলা- চট্টগ্রাম এবং লালিয়ারহাট, তৈয়বিয়া পাড়া, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা এবং একজন নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিক । বর্তমানে তিনি পীরে কামেল হযরত আল্লামা শাহ ছিরিকোটি (রঃ) প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসায় ফাজিল ৩য় বর্ষ ও সরকারী হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ ৩য় বর্ষে অধ্যায়নরত আছেন । তার সংসারে বিধবা কিডনি ডাইলোসিস রোগী মা ও একজন প্রতিবন্ধী বোন ছাড়া আর কেহই নাই । তার মায়ের সপ্তাহে ৩ বার কিডনি ডাইলোসিস করতে হয় ।

এই জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা যোগাড় করতে তাকে ৩/৪ টি টিউশনী করতে হয় । সম্প্রতি চ.মে.ক হাসপাতালের ডাইলোসিস চার্জ ৫৩৫ টাকা হতে ২৯৩৫ টাকায় বৃদ্ধি করায় গত ১০/০১/২০২৩ ইং রোগী ও রোগীর স্বজনদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদী মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন । তাতে পাঁচলাইশ থানার ওসি নাজিম এর নেতৃত্বে একটি পুলিশ ফোর্স আকস্মিকভাবে চড়াও হয় । ওসি সাহেব মোস্তাকিমের কিডনী রোগী মাকে লাথি মেরে ফেলে দেয় এবং ওসি ও পুলিশ সদস্য গণ তাকে বেধড়ক মারধর করে টেনে হেঁচড়ে মারতে মারতে নিয়ে যায় (যাহা বিভিন্ন মিডিয়ায় ফালাওভাবে প্রচার হয়)। পুলিশ প্রথমে চ.মে.ক হাসপাতালের বিপরীতে এপিক হেলথ কেয়ারের নিচে মারধর করে এবং পরে থানায় নিয়ে আসে ।

পরবর্তীতে ওসি সাহেবের নির্দেশে তাকে কোমড়ের নিচে হাতে শক্ত কালো লাঠি পেটা করে রক্তাক্ত ফোলা জখম করা হয় । মোস্তাকিম জানায় মারধরের এক পর্যায়ে আমি যন্ত্রনাতে কাতরাতে থাকি । বাম হাতের কবজি ও পায়ের হাঁটু গোড়ালি ফুলে যায় ও মারাত্মক যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকি । ওসি সাহেব আমার উপর এত ক্ষিপ্ত কেন হলেন বুঝে আসে না । আমি সহ ৫০/৬০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা নং ৭(০১)২৩, ধারা- ১৪৩/৩৩২/৩৫৩ দঃবিঃ দায়ের করা হয় । পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের পর আমাকে গ্রেফতার করে চালান দেওয়া হয় এবং রিমান্ডের আবেদন করা হয় । আমার প্রতি এইরূপ অমানবিক আচরণ ও নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদ জানিয়েছে সমস্ত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ ফাউন্ডেশন – বিএইচআরএফ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, ব্লাষ্ট ও মানবিক চেতনায় এডভোকেট নাগরিকবৃন্দ ।

ফলে রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর হয় এবং ৫ দিন হাজত বাসের পরে আমি জামিনে মুক্তি পাই । এদিকে ওসি পাঁচলাইশ আমার শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাকে সাজানো ও চোট্টাপাতার কৃত্রিম জখম সৃষ্টির এক অদ্ভুত থিউরী আবিস্কার করেন । অথচ আমাকে সরকারি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকগণ শারীরিক নির্যাতনের ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন । ইহা ছাড়াও ঘটনাস্থলে পুলিশের দায়িত্ব কাজে কোনরূপ বাধা প্রদানের ছবি বা ভিডিয়ো ফুটেজ পাওয়া যায় নাই । বরঞ্চ ফুটেজ ও ছবিতে আমার মাকে লাথি মারার ও আমাকে অন্যায়ভাবে বেধড়ক মারধরও নির্যাতনের চিত্র প্রকাশিত হয় । যা ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ফলাওভাবে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয় । এই মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলাটি জনগণের বন্ধু পুলিশ বাহিনীর স্বর্ণালী গৌরবান্বিত ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করে । আমাকে নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত পুলিশগণ এখনও থানায় বহাল তবিয়তে আছে ।

যাদের তত্বাবধানে আনিত মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা সুষ্ঠু তদন্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই । এ পরিস্থিতিতে অন্যায়ভাবে আমাকে ও ডায়োলসিস রোগিদের উপর অত্যাচারকারী পুলিশ সদস্য সহ এ ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী ওসি পাঁচলাইশকে হেফাজতে নির্যাতনের ব্যাপারে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ অবমাননাকর আচরণে আমার দরিদ্র পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান সহ রাষ্ট্র পক্ষে আনিত মিথ্যা, সাজানো হয়রানিমূলক ৭(০১)২৩ নং মামলার প্রসিকিউশন প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জরুরী। তাই আজ আমি নিজ স্বাক্ষরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, সচিব ও আইজিপি বরাবরে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় বিচার দাবী ও মিথ্যা মামলা রাস্ট্র পক্ষে প্রত্যাহারের আবেদন করেছি । উক্ত আবেদন রেজিষ্ট্র ডাকযোগে এবং ই-মেইল যোগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।