ই-পেপার | মঙ্গলবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
×

বাঁশখালীর বাজারে দেশীয় শিম, দাম পেয়ে খুশি কৃষক

বাঁশখালীতে এ বছরও শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। শিমের আগাম চাষীরা উচ্চ মূল্য পেয়ে খুশি। বিগত কয়েক বছর ধরে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় শিমের আবাদ করা হচ্ছে ব্যাপকভাবে। শীতকালিন শিমের পাশাপাশি আগাম চাষাবাদ হওয়ায় শিমের কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিমের কদর বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের শিম চাষে আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানা যায়। ভৌগলিক কারণে বাঁশখালীর অবাদী জমি সহ পাহাড়ি এলাকা চাষাবাদের উপযোগী থাকায় বিভিন্ন সবজির চাষবাদ হয়। এবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিমের চাষ করা হয়েছে। খালি জমি, রাস্তার আশে পাশে হতে শুরু করে পাহাড়েও শিমের আবাদ করা হয়েছে। দেশীয় জাতের শিম বাঁশখালীর হাঁট-বাজারগুলোতে আসতে শুরু করেছে। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এসব দেশীয় শিম।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, বাঁশখালীতে এবার ১৮০ হেক্টর জমিতে দেশীয় শিম চাষ হয়েছে। বাঁশখালী শিম চাষের উর্বর জমি হওয়ায় চাষীদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধকরণ করা হয়েছে বলেও জানান কৃষি অফিস। আগাম শিম চাষাবাদে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হচ্ছে।

শীতকালীন শিম বাজারে আসায় ভোক্তাদের মধ্যে বেশ চাহিদা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন উঁচু এলাকায় শিমের চাষাবাদ হয়ে থাকে। উপজেলার পুঁইছড়ি, নাপোড়া, চাম্বলের পাহাড়ি জমি, শীলকূপের পাহাড়ী ও আবাদী জমি, জঙ্গল জলদী, পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালীপুর, বৈলছড়ি, সরল, খানখানাবাদ ও গন্ডামারা এলাকায় প্রচুর পরিমাণ শিম উৎপাদিত হয়েছে। প্রতিদিন চাষীরা ক্ষেত থেকে শিমগুলো তুলে এনে বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে পাইকারী দরে বিক্রি করছেন। বর্তমানে শিম পাইকারি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ধরে।

উপজেলার শিলকুপ, পুঁইছড়ি, জঙ্গল চাম্বল, জঙ্গল জলদী, কালীপুর এলাকায় এই শিমের আবাদ হয়েছে প্রচুর। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারী ব্যবসায়ীরা বাঁশখালীর বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে ভীড় করছে ফ্রেশ সবজির জন্য। পাইকার এই সকল শিম বিভিন্ন দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায়। তবে পুরোদমে শিম এখনো বাজারে আসেনি। সপ্তাহকয়েক দিনের মধ্যে বাজারে শিমের সয়লাব হবে বলে জানিয়েছেন চাষীরা।

শিম ছাড়াও বাঁশখালীতে টমেটো, বাঁধা কপি, বেগুন, ফুলকপি, মূলা, মূলা শাক, লাল শাক, বরবটি, দেশীয় শিমের পাশাপাশি ফরাস শিম, লাউ, মিষ্টি কুমড়া মিলে শীতকালীন সবজি, মসলা জাতীয় ফসলও বাজারে আসছে। শীতের আগাম সবজিতে ভরপুর বাঁশখালীর হাঁটবাজারগুলো। শহুরে পাইকারের ভীড় জমাতে দেখা যায় শীতকালীন সবজির বাজারগুলোতে। বর্তমানে বাঁশখালীর প্রতিটি হাঁট-বাজারে শীতের সবজি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া গেলেও এবার কিন্তু সবজির দাম চড়া হওয়ায় আগের মত সহজে সকল ধরনের সবজি কিনতে পারছেনা সাধারণ ক্রেতারা। পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তা আরো কম দামে ক্রয় করলেও চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে এমনটি জানান খুচরা ক্রেতাসাধারণ।

বাঁশখালীর প্রধান সড়কের সাহেবের হাট, গুনাগরী, বৈলছড়ি বাজার, শীলকূপের টাইম বাজার, নাপোড়া বাজার ও চাম্বল বাজার এলাকায় প্রতিদিন সকালে প্রচুর পরিমাণ শীতের সবজি বিক্রি হয় পাইকারিভাবে। পাইকারি ক্রেতারা তা চাষীদের কাছ থেকে কিনে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল মুনাফার মাধ্যমে রপ্তানি করে থাকে।

শিলকুপের এলাকার কৃষক মো. রহিম বলেন ‘আমি দেড় কানি মতো শিমের চাষ করেছি। আমার ক্ষেতে শিমের ভাল ফলন হয়েছে। সবেমাত্র শিম বাজারে তুলেছি। আমরা পাইকারিভাবে প্রতি কেজি ৬০/৭০ টাকা বিক্রি করলেও ব্যবসায়ীরা তা আরো চড়া দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু সালেক বলেন, ‘এবার বাঁশখালীতে প্রচুর পরিমাণ শীতকালীন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। স্থানীয় হাঁট-বাজার গুলোতে সবজির যথেষ্ট সয়লাব হয়েছে। সাধারণ চাষীরা আগাম সবজির চাষ করে সন্তুষ্টজনক দাম পেয়ে খুশি। তিনি আরো বলেন ‘চট্টগ্রামের অধিকাংশ সবজির চাহিদা যোগান দেয় বাঁশখালী। বাঁশখালী থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকবোঝাই সবজি শহরের বিভিন্ন বাজারগুলোতে যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাঁশখালীর কৃষকদের শিমের আবাদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।’