ই-পেপার | শনিবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
×

চন্দনাইশে একই জমিতে তিন’রকম সবজি লাভবান কৃষকেরা

প্রযুক্তির অগ্রতি সাধনের এগিয়েছে কৃষিতেও।এর ফল পাচ্ছে চাষিরা। চন্দনাইশে একই জমিতে তিন’রকম সবজি উৎপাদিত হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে। ফলে স্বনির্ভর এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ । দেশের চাহিদা মিটিয়ে এমনকি বিদেশেও খাদ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।
কৃষি বিভাগ ফসল ফলনে নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে সচেষ্টা কৃষিতে আরো এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা ।

চন্দনাইশে ১ দশক আগে যে জমিগুলোতে কৃষকরা এক ফসলি চাষ করে কৃষকদের বসে থাকত হত। সেখানে এখন জমি গুলো সারা বছরে আবাদি হচ্ছে। কোন না কোন ফসলের চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষকরা।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ-সাতকানিয়া উপজেলার শঙ্খ নদীর দু্ই পাড়ে প্রায় ১০-১১ গ্রামের লোক সবজি চাষের সাথে জড়িত। এতে লক্ষাধিক কৃষি শ্রমিক সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে । স্থানীয় কৃষক রহিম মিয়া বলে, নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও উপজেলা প্রশাসেনর কৃষিতে সহযোগিতার কারণে একই জমিতে একসাথে কয়েক রকম সবজি চাষ করছে। একই জমিতে সাথে দুই বা ততোধিক ফসলের চাষ করা শঙ্খ নদীর উপকূলবর্তী চরের একাধিক সবজি ক্ষেত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নিচে উৎপাদন হচ্ছে শীতকালীন মূলা, গাজর, শাক-সবজি, বেগুন আর উপরে মাচাং দিয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে লাউ, শিম, বরবটি।

একইভাবে আবার কোন কোন জমিতে নালা কেটে লাগানো হয়েছে শীতকালীন ধনিয়া পাতা, মরিচ, উপরে মাচাং দিয়ে চাষ করা হচ্ছে কাকরল আর তিত করল। একই জমিতে ৩-৪’ধরনের ফসল চাষের মূল লক্ষ হচ্ছে জমির একটি ফসল উঠে গেলে আর একটি ফসল জমিতে থেকে যায়। আর সে ফসল থেকে দ্রুত উৎপাদন পাওয়া সহজ হয়। ফলে বছরের পর বছর একই জমিতে একসাথে দুই থেকে চার রকমের ফসল উৎপাদনে আগ্রহীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তেমনি এ রকম দু’ফসলা তিন ফসলা, জমির সংখ্যাও বাড়ছে। এ ধরণের ফসল উৎপাদন করে শত শত কৃষক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সংসারের অভাব ঘুচাতে পারছে।
শঙ্খচরের বিশাল এলাকা জুড়ে জেগে উঠা এসব জমির মাটি পলি মিশ্রিত,দো-আশঁ হওয়ায় জমি গুলোর সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং উপযোগি বলে জানালেন কৃষকেরা। একই জমিতে কয়েক ধরনের ফসল ফলিয়ে লাভের মুখ দেখা কৃষকদের মধ্যে নুর মোহাম্মদ,আমির হোসেন,হাছি মিয়া,রফিক,আবদুল শুক্কুর অনেকেই উচ্ছাসিত একই জমিতে একই সাথে কয়েক ধরনের সবজি ফলিয়ে লাভবান হওয়ার কথা জানিয়েছে ।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ না ঘটলে শঙ্খ নদীর উপকূলবর্তী চরে উৎপাদিত সবজি চট্টগ্রামের সিংহভাগ চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।

একই জমিতে একাধিক ধরণের ফসল ফসলের চাষও করছেন। অনেক কৃষক জমি গুলোতে, জমিতে নালা কেটে রোপন করা হয়েছে আখের ডগা,আবার দুইটির নালার মাঝখানের জায়গায় চাষ করা হয়েছে ।নানা ধরণের শাক, মূলা, গাজর, বেগুন। আবার একইভাবে একই জমিতে বেগুন গাছের মাঝখানের সারিতে রোপন করা হয়েছে মূলা, বরবটি, শিমের চারা। পুরো চরজুড়ে সবজি ক্ষেতের সবুজে সবুজে ভরে উঠার দৃশ্য দেখলে মন জুড়িয়ে যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেছেন, শস্য নিবিরতা বেশী, একই জমিতে দুটি ফসলের চাষ বা একাধিক চাষ হওয়ার বিষয়টি সত্য। কৃষি ক্ষেত্রে এটি একটি আশা ব্যাঞ্জক দিক। এভাবে প্রত্যেক এলাকায় একই জমিতে দুই বা একাধিক ফসল উৎপাদন গড়ে উঠলে দেশ কৃষিতে বিশাল অবদান রাখবে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এটি সকলের জন্য মঙ্গলজনক।